গত ৫ থেকে ৭ বছর ধরে রাজশাহীর প্রাণকেন্দ্র ভুবন মোহন পার্কের আড়ালে নীরবে গড়ে উঠেছিল "অনলাইন জুয়ার আসর"। বিগত দিনে অনেকেই এসেছেন, গেছেন। কিন্তু কেউ এই অপরাধের আখড়ায় হাত দেননি। অবশেষে সেই দীর্ঘদিনের অভিশাপ ঘুচালেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের নবনিযুক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার পরিচালিত প্রথম বড় ও সাহসী অভিযান। এই অভিযানটি সরাসরি রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের নির্দেশনা অনুযায়ী রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ জুয়াবিরোধী টিম ও সিআরটি টিম যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির ঘোষণা দিয়েছিলেন, রাজশাহী নগরীকে মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত করা হবে। কোনো ছাড় নয়। তার সেই "জিরো টলারেন্স" নীতির প্রথম বাস্তব প্রমাণ মিললো
গত সোমবার (২৪ আগস্ট) রাত সোয়া ২টায়। কমিশনারের সরাসরি নির্দেশনা ও কৌশলগত পরিকল্পনায় ভুবন মোহন পার্কের সিটি করপোরেশনের দ্বিতল ভবনে অভিযান চালিয়ে হাতেনাতে ১০ জন জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উদ্ধার করা হয় ৬ সেট তাস, অনলাইন জুয়ায় ব্যবহৃত ৪টি স্মার্টফোন, ৭টি বাটন ফোন এবং নগদ ৫৯ হাজার ৫৪৫ টাকা। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া মডেল থানায় জুয়া প্রতিরোধ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলা নং-৫১, তারিখ-২৪ আগস্ট, ২০২৬; জি আর নং-২৯৩, তারিখ-২৪ আগস্ট, ২০২৬; সময়-০৫:৫০ ঘটিকা। ধারা-১৫/১৬/১৮(১)/১৯(১) জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ১। মোঃ বেলাল হোসেন (৫৫), পিতা- মৃত মনিরুল ইসলাম, সাং-হোসনীগঞ্জ, ২। মিলন সরকার (৩০), পিতা- মৃত তুলসী সরকার, সাং-বেলদারপাড়া, ৩। কাজী ছোটন (৫১), পিতা- মৃত কাজী সাজ্জাদ হোসেন, সাং-রাজারহাতা (সিটি কলেজ), ৪। বাদল (৫২), পিতা- মৃত হোসেন সরদার, সাং-বোয়ালিয়াপাড়া, সর্ব থানা-বোয়ালিয়া, ৫। মোঃ খোকন (৫৪), পিতা- মৃত মুসলিম সরদার, সাং-আসাম কলোনী বৌ বাজার, ৬। মোঃ হাবিবুর রহমান (৬০), পিতা- আব্দুল হামিদ সরকার, সাং-শিরোইল কলোনী ১নং গলি, ৭। মোঃ আইনুল হক (৫০), পিতা- মৃত রমিজ উদ্দিন, সাং-শিরোইল কলোনী, বাসা নং-২৬৩, ৮। মোঃ আব্দুল আলিম (৪৫), পিতা- মৃত আবুল হোসেন, সাং-শিরোইল কলোনী, ৩নং গলি, সর্ব থানা-চন্দ্রিমা, সর্ব মহানগর রাজশাহী। ৯। রানা (৩৭), পিতা- মোঃ শুক্কুর, ১০। মেহেরাজ (৩২), পিতা- নাসির উদ্দিন, উভয় সাং-চক বৈদ্যনাথ, থানা-নাটোর সদর, জেলা-নাটোর।
৭ বছর পর এই আসর ভাঙ্গায় উচ্ছ্বসিত স্থানীয়রা। তারা সবাই রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের প্রশংসা করেন। স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল হোসেন বলেন, ৭ বছর ধরে এই পার্কে জুয়া চলতো কেউ কিছু বলেনি। কমিশনার ফয়েজুল কবির স্যার আসার পর এক অভিযানেই সব শেষ। স্যার একজন সাহসী ও দূরদর্শী অফিসার। পার্কে প্রতিদিন বসেন এমন আব্দুল মালেক বলেন, বিগত দিনে অনেক পুলিশ কমিশনার এসেছেন। কিন্তু কেউ এখানে আসেননি। ফয়েজুল কবির স্যার প্রথমেই প্রমাণ করলেন তিনি কাজের মানুষ। আমরা তার পাশে আছি। দোকানদার সোহেল রানা বলেন, পুলিশ কমিশনার স্যারের নির্দেশনায় পুলিশ যেভাবে ধরপাকড় শুরু করেছে তাতে মনে হচ্ছে রাজশাহী এবার সত্যিই বদলাবে। তাকে স্যালুট। কলেজ শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার বলেন, নতুন পুলিশ কমিশনার স্যারের জন্য এখন আমরা নিরাপদ। তিনি প্রমাণ করেছেন চাইলে ৭ বছরের পুরনো অপরাধও কয়েক দিনে শেষ করা যায়।
পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের এই অভিযান প্রমাণ করেছে, সঠিক নেতৃত্ব থাকলে দীর্ঘদিনের অপরাধও নির্মূল সম্ভব। তার নির্দেশনায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ এখন আরও আত্মবিশ্বাসী ও জনবান্ধব। রাজশাহী নগরীকে এখন পুলিশ কমিশনারের হাত ধরেই একটি জুয়া ও মাদকমুক্ত, নিরাপদ নগরীর স্বপ্ন দেখছেন নগরবাসী।

